Space for Add

Header ADS

এনজাইম (Enzyme) বনাম প্রোটিন


এনজাইম হলো এক ধরনের প্রটিন। যা ম্যাক্রোমলিকুলার অণূঘটক হিসাবে কাজ করে। এটি মুলত প্রাণী বা উদ্ভিদের জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলোকে দ্রুতগতি করে এবং প্রক্রিয়া শেষে অপরিবর্তিত থাকেএসব বিক্রিয়াকে হাজার গুণ, এমনকি লক্ষ গুণ দ্রুততর করে, অথচ শেষ অবধি নিজে বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না বরং একই এনজাইম অণু এভাবে বারবার হাজারবার পর্যন্ত একই কাজ পুনরাবৃত্তি করতে পারে

আন্তর্জাতিক প্রাণরাসায়ন ও অণু জীববিজ্ঞান সম্মিলনের  নামকরণ কমিটি এই  এনজাইমগুলোকে  ছয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করে   টি ইসি নম্বর নির্দিষ্ট  করেন। ইসি ১. অক্সিডোরিডাক্টেজ (জারণ-বিজারণ সহায়ক), ইসি ২.ট্রান্সফারেজ, ইসি ৩ হাইড্রোলেজ, ইসি ৪. লাইএজ, ইসি ৫.আইসোমারেজ, ইসি ৬.লাইগেজ অবাক করার বিষয় হল মানুষের দেহে প্রতিনিয়ত  প্রায় ৫০০০টিএনজাইম বিভিন্ন বিক্রিয়ায় অংশগ্রহন করে থাকে দেহে এনজাইম না থাকলে বহু বিক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুততায় সম্পন্ন হতো না বা একেবারেই সংঘটিত হতো না ফলে জীবন প্রক্রিয়াই সম্ভব হতো না ১৯২৬ সালে জীবকোষ থেকে প্রথম বিশুদ্ধ এনজাইম নিষ্কাশন সম্ভব হয়। ১৯৬৯ সালে প্রথম কৃত্রিমভাবে এনজাইম তৈরি করা হয়। এনজাইমের অভাব নানারকম উপসর্গ সৃষ্টি করে বলে ওষুধে এনজাইমের ব্যবহার রয়েছে। তাছাড়া রোগ নির্ণয়ে এবং কিছু ব্যতিক্রমী চিকিৎসার কাজেও এনজাইমের ব্যবহার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষত পরিষ্কার, রক্তনালিতে জমাট রক্ত সরানো ইত্যাদি। শিল্প ক্ষেত্রেও এনজাইমের প্রচুর ব্যবহার রয়েছে; যেমন_ অ্যান্টিবায়োটিক রুটি, পনির, ভিনেগার, ভিটামিন ইত্যাদি তৈরিতে, মাংস নরম করতে, ঘাম প্রভৃতি জৈব দাগ পরিষ্কার করতে ডিটারজেন্টে। জেনে অবাক হতে হয়, মানব দেহের ক্রিয়া-বিক্রিয়ার একটি পূর্ণ ধাপ শেষ করতে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি এনজাইম প্রয়োজন হয়।  এনজাইমগুলো প্রাণি বা ঊদ্ভিদের জৈবনিক ক্রিয়ার অণুর প্রথমে দুর্বল অংশের সাথে যুক্ত হয়। আস্তে আস্তে বিক্রিয়ার উপযুক্ততা তৈরী করে। এনজাইমের প্রভাবে অণুগুলোর মধ্যে গাঠনিক পরিবর্তন হয়। নতুন কোন বিক্রিয়কের সাথে যুক্ত বা নিজে ভেঙ্গে যায়। এর ফলে কিছুটা তাপ উৎপন্ন হয়। এভাবে এনজাইম শরীরে তাপ উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। এনজাইমযুক্ত জৈব অণু একটি নির্দষ্ট সময় স্থায়ী হয়। বিজ্ঞানীরা একটি এনজাইমের বিক্রিয়ার হল গড়ে প্রায় ১.৮*১০^-1 সেকেন্ড।

No comments

Feature post

দাঁত, চুল, নখ পর্যন্ত প্রোটিন(Protin) দিয়ে গঠিত?

প্রোটিন ( আমিষ )   বৃহত জৈব অণুর প্রকারবিশেষ। প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। জীন নির...

Theme images by michieldb. Powered by Blogger.